বিপিএলের শুরুটা ছিল চরম অনিশ্চয়তায়। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক দিন আগে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক দিতে না পেরে দলটির মালিকানা ছেড়ে দেয় চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকপক্ষ। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দায়িত্ব নেয় দল পরিচালনার। এমন এলোমেলো পরিস্থিতির মাঝেই শুরু হয়েছিল চট্টগ্রামের বিপিএল যাত্রা।
প্রথম ম্যাচে মাত্র দুইজন বিদেশি ক্রিকেটার নিয়ে মাঠে নেমেছিল দলটি। তবে সব প্রতিকূলতা ছাপিয়ে চার ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে তিনটি জয় নিয়ে তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট হলেও নেট রান রেটে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে পেছনে ফেলেছে চট্টগ্রাম।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টানা দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে দলটি। প্রথমে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১০ উইকেটে হারানোর পর আজ একই মাঠে সিলেট টাইটানসকে ৯ উইকেটে পরাজিত করে তারা।
১২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়েই জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ও অ্যাডাম রসিংটন গড়ে তোলেন ৮২ বলে ১১৫ রানের দুর্দান্ত জুটি। নাঈম ৩৭ বলে ৫২ রান করে আউট হলেও রসিংটন ৫৩ বলে ৭৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।
এর আগের ম্যাচেও এই দুই ওপেনার ঢাকার বিপক্ষে ১২৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে বড় জয় এনে দেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে চট্টগ্রামের ব্যাটিং এখন বিপিএলের অন্যতম সেরা শক্তি হয়ে উঠেছে।
আজকের ম্যাচে জয়ের ভিত গড়ে দেন বোলাররাই। মাত্র ৩৪ রানেই সিলেট টাইটানসের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেন চট্টগ্রামের বোলাররা। মুকিদুল ইসলামের হাতে শুরুটা হয়—তিনি ওপেনার মেহেদী হাসান মিরাজকে ৫ রানে আউট করেন। এরপর একে একে উইকেট হারান হজরতউল্লাহ জাজাই, ইথান ব্রুকস ও আফিফ হোসেন।
সিলেটের পক্ষে পারভেজ হোসেন করেন ১৭ রান। শেষদিকে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ৪১ বলে ৪৪ রান করে দলকে ১২৬ পর্যন্ত পৌঁছে দেন।
শেষ পর্যন্ত সহজ জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস, যা তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল।
